পুকুর ও ফসলি জমি অধিগ্রহণ। প্রকাশকাল-০৩ অক্টোবর ২০১৮। প্রথম আলো।

  • রাজবাড়ীতে পুকুর ভরাট করে বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ ও জনস্বার্থের বিষয়টিও উপেক্ষিত হচ্ছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এই সাবস্টেশন নির্মাণ করছে। এ জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাওয়ার হাউসের পুকুর নামে পরিচিত পুকুরটিতে বালু ফেলা শুরু হয়েছে। পুকুরপাড়ের কয়েকটি বড় গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, পুকুর ভরাট করার ফলে শহরের পানিনিষ্কাশনে সমস্যা হবে। কেননা, বৃষ্টির পানি এই পুকুরেই এসে জমা হয়। পুকুর ভরাট হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। এ ছাড়া পুকুর ভরাট করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশ অধিদপ্তরেরও কোনো ছাড়পত্র নেয়নি।

  • মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ষোলআনী ও দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র হোক সেটা তাঁরাও চান, কিন্তু যে জমিতে বছরে তিনবার ফসল ফলে, সেই জমি নষ্ট করে নয়। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি লোকদের ভুল বুঝিয়ে সেখানেই তাপভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ষড়যন্ত্র করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। যদি এসব জমিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়, ফসলি জমি নষ্ট হবে। পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিন ফসলি জমিতে চাষাবাদ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, এমন অনেকেই তাঁদের জীবিকা হারাবেন।

সুন্দরবনের ভেতরে চারটি ফাঁড়ি করতে ১২ একর জমি চায় র‍্যাব। প্রকাশকাল- ১৭ অক্টোবর ২০১৮। প্রথম আলো।

  • সুন্দরবনের চারটি এলাকায় স্থায়ী ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য ১২ একর জমি চেয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যু দমন, জেলেদের সুরক্ষা ও বন্য প্রাণী রক্ষায় র‍্যাব এসব স্থাপনা তৈরি করতে চায়। তবে এই প্রস্তাবের ব্যাপারে বন বিভাগ আপত্তি জানিয়ে বলেছে, সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে বনদস্যুদের সংখ্যা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ফলে সুন্দরবনে র‍্যাবের ফাঁড়ি স্থাপনের দরকার নেই।
  • ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের কটকা, সুপতি, দুবলার চর ও মুন্সিগঞ্জে ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে কটকা সুন্দরবনের বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য এলাকা ও জাতিসংঘের শিল্প, বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা। এ ছাড়া কটকা, সুপতি ও মুন্সিগঞ্জ সুন্দরবনের বাঘের অন্যতম বসতি এলাকা। বন আইন অনুযায়ী, সুন্দরবনের ভেতরে কোনো ধরনের স্থাপনা করা নিষেধ।
  • র‍্যাবের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সুন্দরবনের বনদস্যু দমনে র‍্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বনদস্যুদের কারণে সেখানে জেলেদের মাছ ধরার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। জেলেদের অপহরণসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে বনদস্যুরা জড়িত। এসব তৎপরতা বন্ধ করা এবং জেলেদের সুরক্ষার জন্য ওই চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী স্থাপনা বা ফাঁড়ি থাকা প্রয়োজন।
  • সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য ও বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য এলাকায় স্থাপনা করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা আছে। ইউনেসকোর পক্ষ থেকে সেখানে স্থাপনা করার ব্যাপারে আপত্তি আছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘আমরা তো বন ও বন্য প্রাণীদের রক্ষার জন্যই কাজ করব। এতে বনের লাভ হবে। আমাদের প্রস্তাব মেনে নিয়ে জমি বরাদ্দ দিলে তা সুন্দরবন তথা দেশের জন্য উপকার হবে।’
  • খুলনা সার্কেল বলেছে, র‍্যাব প্রস্তাবিত কটকার পূর্ব পাশে ককিলমনিতে ২০১০ সাল থেকে কোস্টগার্ডের স্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। ফলে ওই এলাকা বনদস্যুদের হাত থেকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত। সুপতি ও দুবলার চরেও কোস্টগার্ডের স্থাপনা রয়েছে। ফলে ওই এলাকাগুলোতে নতুন করে র‍্যাবের স্থাপনা করার দরকার নেই।
  • সুন্দরবনের ভেতরে ক্যাম্প স্থাপনের জন্য কোনো ফাঁকা ভূমি নেই বলে জানিয়েছে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। তিন একর করে জমিতে র‍্যাব ফাঁড়ি স্থাপন করলে বনের বিপুলসংখ্যক গাছপালা কাটতে হবে, যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণীদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
  • অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবন একটি জলাভূমি পরিবেষ্টিত বন। সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো করার বিষয়ে আইনি বাধা রয়েছে। আর বনের বাইরে থেকে এত দিন অভিযান পরিচালনা করা গেলে তা ভবিষ্যতেও করা যাবে। এ জন্য বনের মধ্যে স্থায়ী অবকাঠামোর দরকার নেই। কেননা এতে বনের প্রতিবেশ-ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে।

খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে ৮শ’ পরিবার। প্রকাশকাল-অক্টোবর ১৩, ২০১৮। বাংলা ট্রিবিউন।

  • খাগড়াছড়ির ৮ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৮শ’ পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন কর্তৃক জেলার ৯ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকবার জরিপ করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের সংখ্যা নির্ণয় করা হয়েছে। তবে এসব পরিবারের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে ১১ পরিবারকে স্থায়ী ও নিরাপদস্থানে পুনর্বাসন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে, পর্যায়ক্রমে পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা সব পরিবারের পাশে দাঁড়াবে সরকার। ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সম্পদহানির পাশাপাশি প্রানহানির শঙ্কা কমাতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • খাগড়াছড়ি পৌরসভা মেয়র মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও যেসব পাহাড় গাছপালা-লতাপাতা-গুল্ম, পশুপাখি, কীট-পতঙ্গে ভরা ছিল, যেখানে সাঁঝের পর শিয়ালের হুক্কাহুয়াসহ নানা ধরনের বনসংগীতের সুর শোনা যেত, সেখানে আজ মানুষের কড়াল থাবা। নির্বিচারে পাহাড় কেটে পাহাড়ের ওপরে ঘর, পাহাড়ের পাশে ঘর, পাহাড়ের নিচে ঘর, এমনকি পাহাড়ের গ্যাপেও ঘর। যারা পাহাড় শাসানোর স্বপ্নে বিভোর-তারাই নির্ঘুম রাত কাটান পাহাড়ের পাল্টা প্রতিশোধ আতঙ্কে।’ তিনি সবাইকে সতর্ক হওয়ার অনুরোধ জানান।
  • অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘খাগড়াছড়ি জেলার আট উপজেলার শহরগুলোর চারপাশের পাহাড়গুলো অপরিকল্পিত নগরায়নের কালো থাবার শিকার। বড় ধরনের দুর্ঘটনার  আগেই তাদের সচেতন, কার্যকরি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদনসহ জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসন করা দরকার বলে মনে করি।’

PM opens Payra Thermal Power Plant Rehabilitation Projectpublished- October 27, 2018। The Daily Star।

  • Prime Minister Sheikh Hasina inaugurated Payra Power Plant Rehabilitation Project at Kolapara in Patuakhali this afternoon and visited the power plant. The premier opened the scheme named Swapner Thikana at a function on the power plant premises. She also visited newly constructed houses for the people affected in project area and handed over keys and registration papers to the rehabilitated families. She also released fish fries into the ponds of the centre and planted a sapling. Earlier, she visited Payra Thermal Power Plant Project where Power Division Secretary Ahmed Kaikaus and the project director briefed her on different aspects of the plant. She also briefly addressed a gathering of workers and said that the power plant will bring about a revolutionary change in the life and livelihood of the people of the southern region. Highlighting the government’s steps for generating electricity in the country, the prime minister said the government has been able to produce 20,000 MW electricity over the last 10 years.
  • The state-run North-West Power Generation Company Ltd and Chinese CMC Company are jointly constructing the ultra supercritical power plant. According to officials, the present capacity of the plant is 1497 MW, while the future plan is to produce 6130 MW.
    The authorities have set a target to generate 10,000 MW by 2025 through the plant.

Protest against illegal stone extractionOctober 31, 2018।The Daily Star।

  • Hundreds of students from the indigenous community in Bandarban at a human chain programme on 30 October demanded immediate steps to stop illegal stone extraction from local natural water bodies. They formed the human chain in front of Bandarban Press Club, following a protest procession that paraded the main streets of the town in the morning.
  • Indigenous villagers are facing acute water crisis as some local influential unscrupulous people and a few local journalists have been continuing illegal stone extraction from the natural water bodies in Alikadom, Thanchi, Rowangchhari, Lama and Sadar upazilas of the district for long, speakers said.
  • They alleged that the local administration is turning a blind eye towards the illegal act and seems reluctant to take any steps against the perpetrators as they are locally influential people.
  • Speakers said local influential people like Pradeep Das, Ali Hossain, Nasir Uddin, Manu member, Muktaron Tripura and Md Mubarak and local journalists Md Ishaque, HM Samrat, Mong Sanu Marma and Kyamui Aung Marma have been continuing stone extraction from different natural water bodies in the district.

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজেও যুক্ত হচ্ছে ভারত!০১ নভেম্বর ২০১৮। প্রথম আলো।

  • পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকবল প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশন অব ইন্ডিয়ায় (এনপিসিআইএল)। গত জুলাই পর্যন্ত তিনটি ব্যাচে মোট ১৪৩ জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সর্বশেষ ব্যাচে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন ৫৫ জন। গত বছরের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির অধীনে এসব কর্মকর্তা ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। আবার ভারত থেকে পরমাণু পরামর্শকেরাও বাংলাদেশের রূপপুরে আসছেন। বর্তমানে পাবনার রূপপুরে ছয়জন ভারতীয় পরমাণু বিশেষজ্ঞ পরামর্শক রয়েছেন। বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা এনপিসিআইএল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশটির তামিলনাড়ুর কুদানকুলামে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে স্থাপিত ‘ভিভিইআর ১০০০’ কেন্দ্রেও সরেজমিনে প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছেন।
  • রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গত বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে করা পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির আওতায় এখন শুধু লোকবল প্রশিক্ষণের পর্যায় রয়েছে। ভবিষ্যতে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে ভারত অংশ নেবে। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, লোকবল প্রশিক্ষণ ও কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব রাশিয়ার কাছে ছিল। এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গেও একটি চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। এখন এ প্রকল্পের রাশিয়ার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে ভারত। আগে বলা হয়েছিল, এই প্রকল্পে ভারতের কাছ থেকে পরামর্শসেবা নেওয়া হবে, প্রকল্পের জনবল প্রশিক্ষণে তারা সহায়তা দেবে।
  • গত বছরের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি সই হয়। তার ওপর ভিত্তি করে এ বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। এ বাস্তবতায় ভারত এখন রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা, লোকবল প্রশিক্ষণ, এমনকি কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
  • তবে নিজ দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রি–অ্যাক্টর থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুর জন্য ভারত রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। নিজের দেশের কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের বাইরে বিশ্বের কোথাও পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণে ভারতের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
  • গত ১৯ মার্চ বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের কাজের বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছে। এখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতে ভারতের আণবিক শক্তি বিভাগের প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপের (জিসিএনইপি) অভিজ্ঞতা ও সেবা নেওয়া হবে।
  • রূপপুরে ভারতের এই অংশগ্রহণ সম্পর্কে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের উচিত হবে ভারতের সহযোগিতাকে শুধু পরামর্শসেবা, দক্ষ লোকবল সহায়তা ও লোকবলের দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। এর বাইরে রূপপুরে ভারত, বিশেষত কেন্দ্রের কোনো যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও কেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হলে সেটি ঠিক হবে না। আমরা যদি ভারতকে এ কেন্দ্র নির্মাণে যুক্ত করি, তাহলে দেশটির পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যাবে।’
  • ভারত ২০১৬ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে জানায়, তারা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্ত হতে চায়। চিঠির সঙ্গে পরমাণু সহযোগিতার ব্যাপারে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে কী ধরনের চুক্তি হতে পারে, তার একটি খসড়াও পাঠানো হয়। গত বছরের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪০ বছরের (শুরুতে ২০ বছর, তারপর আবার ২০ বছর) পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি সই হয়। তবে চাইলে ২০ বছর পর যেকোনো পক্ষ চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
  • কূটনৈতিক সূত্র ও পরমাণু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত মনে করে, প্রতিবেশী কোনো দেশ সামরিকভাবে শক্তিশালী হলে তা হবে তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই সামরিক কাজে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় দেশটি। সহযোগিতা চুক্তিতেও বলা হয়েছে, সামরিক কাজে কোনোভাবেই পরমাণু শক্তি ব্যবহার করা যাবে না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ভারতের আগ্রহের আরেকটি কারণ, ভারত বহুদিন ধরে নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপের (এনএসজি) সদস্যপদ পেতে চেষ্টা করছে। ৪৯টি দেশের এ জোটে ভারত ঢুকতে পারছে না চীনের বাধার কারণে। ভারত এনএসজিতে ঢুকলে পরমাণু পণ্য ও প্রযুক্তি খাতে লাখো কোটি টাকার বাজারে ঢুকতে পারবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে যুক্ত হতে পারলে তাদের সে পথ সুগম হবে। কারণ, বাংলাদেশের রূপপুরই ভারতের বাইরে তাদের এ ধরনের কোনো প্রকল্পে প্রথম যুক্ত হওয়া।
  • সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনা করে এবং পরমাণুবিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্পে রাশিয়া শুধু ফুয়েল রড বা ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ জ্বালানি দেবে। বাকি সবকিছু ভারত করবে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রের মূল রি–অ্যাক্টর, টারবাইন নির্মাণ, কেন্দ্র পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ, লোকবলের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। চুক্তির আওতায় ভারত নিজে অথবা তৃতীয় কোনো দেশ থেকে রি–অ্যাক্টর সরবরাহ করতে পারবে।
  • চুক্তি অনুসারে, ভারত কেন্দ্র নির্মাণ ও কেন্দ্র পরিচালনায় যুক্ত থাকবে। আবার ভারতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রের সবকিছুর বিষয়ে পরামর্শও দেবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভারতের সরবরাহ করা কোনো যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির মান কে যাচাই করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ভারতের কুদানকুলামে রাশিয়া নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছিল, এটি তখন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা শনাক্ত করার পর রাশিয়া ওই যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে দেয়।
  • কিন্তু বাংলাদেশ-ভারত পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি এবং তার সূত্রে করা ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, ভারত পরমাণু কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে। ভারত তৈরি করে না—এমন যন্ত্র তারা তৃতীয় কোনো দেশ থেকে এনে দেবে। এ বিষয়ে রাশিয়ার মত জানতে চাইলে দারিয়া স্যাভজেনকো বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’
  • ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সব দায়িত্ব রাশিয়ার হাতে থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশ-রাশিয়া-ভারতের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ফলে রূপপুরে নির্দিষ্টভাবে রাশিয়া ও ভারতের ভূমিকা কোথায় কীভাবে থাকবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে রাশিয়া ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। ফলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা বলছেন, রূপপুর নিয়ে এ পর্যন্ত যত চুক্তি হয়েছে, সব প্রকাশ করা উচিত।
  • তবে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চুক্তির কোথাও কেন্দ্রে বিপর্যয় হলে কে দায় নেবে, সেটা স্পষ্ট নেই। ফলে এ চুক্তি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কেন্দ্রের সবকিছুই যখন ভারত করবে, তাহলে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি কে নেবে, সে ব্যাপারেও অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। যদিও রাশিয়ার সঙ্গে স্পেন্ট ফুয়েল ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের পৃথক চুক্তি হয়েছে।

লবণাক্ততার কারণে উদ্বাস্তু হবে মানুষ । প্রকাশকাল- ০৩ নভেম্বর ২০১৮। প্রথম আলো।

  • মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের উপকূলের প্রায় দুই লাখ কৃষক বাস্তুচ্যুত হবেন। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূল অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে ধান চাষের অনুপযোগী হলে কৃষক এলাকা ছাড়বেন। নতুন একটি গবেষণার অনুমিত হিসাবে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
  • যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটি ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে এ গবেষণা করেছেন। গবেষকেরা বলছেন, ঘন ঘন নোনা পানির প্লাবন ইতিমধ্যে বহু কৃষককে ধান চাষ ছাড়তে বাধ্য করেছে। কৃষক এখন ধানের জমিতে চিংড়ি বা অন্য সামুদ্রিক মাছের চাষ করছেন।
  • জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন অধ্যাপক আইনুন নিশাত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলের নদী-খালে লবণপানি যে বাড়ছে, তার প্রমাণ আছে। তবে মনে রাখতে হবে, উপকূলে বেড়িবাঁধও আছে। বাঁধের কারণে নোনা পানি ফসলের জমিতে প্রবেশে বাধা পায়। মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে ধানের উৎপাদন কমছে, এমন উপাত্ত নেই। অন্য বিষয়টি হচ্ছে, মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়ার মতো জায়গা দেশে নেই। এ দেশের মানুষের নোনা পানির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বসবাস করার অভিজ্ঞতা আছে।
  • মূলত তিন ধরনের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে (মডেলিংয়ের মাধ্যমে) তাঁরা বাংলাদেশের উপকূলে নোনা পানির প্লাবন, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মানুষের অভিবাসন নিয়ে এই পূর্বাভাস দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁরা আগের কিছু গবেষণার তথ্যও বিশ্লেষণের কাজে ব্যবহার করেছেন। গবেষকেরা বলছেন, তাঁরা অভিবাসনের ক্ষেত্রে লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রভাব দেখতে চেয়েছেন। প্লাবনের প্রভাব এই হিসাবের মধ্যে নেই।
  • গবেষকদের অনুমিত হিসাব বলছে, মাঝারি ধরনের লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে একটি খামারের কৃষি আয় বছরে ২১ শতাংশ কমে যাবে। আগামী ১২০ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের উপকূলে বসবাসকারী ১৩০ কোটি মানুষের বসতি সমুদ্রের পানিতে ডুবে যাবে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিজমির ৪০ শতাংশ মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়বে। ইতিমধ্যে উপকূলের মানুষ ঘন ঘন প্লাবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করছে।
  • গবেষণায় অভিবাসন বিষয়ে দৃষ্টি কাড়ার মতো তথ্য দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, জলবায়ুর প্রভাবজনিত কারণে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ২৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। কিন্তু মানুষের বিদেশ যাওয়া ৬৬ শতাংশ কমে যাবে। বিদেশ যাওয়া কমে যাওয়ার একটি কারণ হবে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। চিংড়ি ও মাছ চাষ অনেক মানুষকে কাজ দেবে। গবেষণায় একটি চিত্রে দেখানো হয়েছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের অভিবাসন হবে নিজের জেলায়। অন্য চিত্রে দেখানো হয়েছে, ৬০ হাজার মানুষের অভিবাসন হবে অন্য জেলায়। সে ক্ষেত্রে অভিবাসী মানুষ ঢাকাকে আশ্রয়স্থল হিসেবে বেশি প্রাধান্য দেবে। সেই তুলনায় উত্তরের জেলাগুলোতে অভিবাসন কম হবে।

উচ্ছেদ আতঙ্কে লামার ১৫২ ম্রো পরিবার ।২৩ নভেম্বর ২০১৮। সমকাল।

  • লামার দুর্গম গ্রাম বা পাড়ার নাম লক্ষণঝিড়ি মুরংপাড়া। লামা সদর থেকে পোপা মৌজার এ গ্রামটিতে হেঁটে যেতে লাগে সাড়ে তিন ঘণ্টা। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় লাগে দুই ঘণ্টা। সেখানে বসবাস করে ১০টি ম্রো পরিবার। ভূমিদস্যুদের হুমকিতে ভীত তারা সবাই। এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকেও যদি উচ্ছেদ হতে হয়, তাহলে হয় দেশান্তর, না হয় মৃত্যুর পথে হাঁটতে হবে তাদের।

  • তাও পাড়ার নিংপাই ম্রো বলেন, ৪৫ বছর ধরে নিজেদের জায়গায় জুমচাষ করে আসছেন। এভাবে কোনো মতে সংসার চলে তাদের। অথচ এত বছর পরে কয়েকজন ‘বাঙালি’ (দখলদার) এসে বলছে, এসব জায়গা তাদের।
  • পুরনো পাইনচুই ম্রো পাড়ার কাইনওয়াই ম্রো বলেন, এখানে বন্যশূকর, বানর, হাতি, বনবিড়াল এবং গেছোবাঘও ছিল। এসব বুনো জানোয়ারদের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছি। বাঁচার জন্য সংগ্রাম করে চলেছি। কিন্তু প্রভাবশালী কয়েকজন ‘বাঙালি’ এসে জোর করে তাদের জুমের জায়গা দখলে নিয়েছে।
  • এই উচ্ছেদ আতঙ্কের মূলে রয়েছেন রবিউল হোসেন ভূঁইয়া। স্থানীয় ম্রোদের কাছে রবি কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। অন্যরা হলেন- মেরেডিয়ান কামাল নামে পরিচিত লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক কামাল উদ্দিন ও মোস্তফা গ্রুপের স্বত্বাধিকারী শফিক উদ্দিন আহম্মদ।
  • রবিউল হোসেনের দাবি, পোপা মৌজার স্থানীয় ম্রোদের কাছ থেকে তিনি ১০০ একর জায়গা কিনেছেন। তার কেনা জায়গাতেই জঙ্গল কেটেছে শ্রমিকরা। অন্য কোনো জায়গাতে হাত দেওয়া হয়নি। এ-সংক্রান্ত বৈধ কাগজ কাছে থাকার দাবিও করেন তিনি।
  • কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পোপা মৌজায় ১০ একর জায়গা কেনার কথা জানান। পোপা মৌজায় তিনি কখনও আসেননি উল্লেখ করে বলেন, জায়গাটি রবিউল হোসেনের মাধ্যমে কিনেছি। কেউ কোনো কিছু দখল করেছে কি-না, তা জানি না। ম্রোদের জায়গা দখল করেছি, এ অভিযোগও আপনার (সমকাল প্রতিনিধি) মাধ্যমে জানতে পারছি। তবে এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।
  • মোস্তফা গ্রুপের শফিক উদ্দিন আহম্মদের নামে পোপা মৌজায় ১৯ একর জায়গা রয়েছে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাদের গ্রুপের (মোস্তফা গ্রুপ) মাধ্যমে পোপা মৌজাতে জায়গা নেওয়া হয়েছে। তবে কত একর জায়গা আছে, তা তিনি জানাননি। তিনি বলেন, তাদের গ্রুপ সেখানে স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার চিন্তা করছে। সেখানকার লোকজনকে শিক্ষিত করে তোলার চিন্তা করছে। এলাকাটি দুর্গম, সেখানে লোকজনও তেমন নেই, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেটি ঠিকমতো চলে না- এসব জানিয়ে শফিক উদ্দিনকে প্রশ্ন করা হয়, কীভাবে আপনারা সেখানে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন- এ প্রশ্নে শফিক উদ্দিন বলেন, এলাকাটি দুর্গম কি-না, তা জানা নেই তার। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার মতো পরিবেশ সেখানে না থাকলে এসব অন্য কোথাও করা হবে।
  • ম্রাথোয়াই ম্রো আরও বলেন, গত ৩ অক্টোবর প্রতিকার পাওয়ার আশায় তারা লামা উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা কয়েকটি পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত সংবাদও প্রকাশ করেন। ভূমি দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়াতে তিনি নিজেও ভয়ে আছেন বলে জানান।
  • লামা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর এ জান্নাত বলেন, পোপা মৌজার লোকজন তার কাছে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে আবেদন করেছেন। একে দুর্গম এলাকা, এর ওপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন- এ জন্য একটু সময় লাগছে তার। আগামী ডিসেম্বরেই তদন্ত টিম গঠন করে সেখানে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম বলেন, সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি কেমন তা জানি না। তবে তাদের আবেদনপত্র নেওয়া হয়েছে।
  • পাড়া সাতটিতে ঘুরে দেখা গেছে, দখলদাররা বেছে বেছে ম্রোদের জুমের জায়গাগুলোতে জঙ্গল কেটেছে। প্রায় ৫০০ একর জায়গাজুড়ে এভাবে খণ্ড খণ্ড জায়গায় জঙ্গল কাটা হয়েছে। পাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ করেন, ভূমি দখলকারীর লোকজন তাদের ভয়ভীতি ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এ কাজ করেছে। সেসব স্থান থেকে কাঠ, বাঁশ, লাকড়ি সংগ্রহ করতেও বাধা দিচ্ছে তারা। এমনকি সেখানে তাদের গরু চরাতেও দেওয়া হচ্ছে না। মামলা ও পুলিশের ভয়ও দেখানো হচ্ছে তাদের।
  • সরেজমিন লক্ষণঝিড়ি পাড়াসহ পুরনো তাও পাড়া, নতুন তাও পাড়া, লাইলিয়া ম্রো পাড়া, পুরনো পাইনচুই ম্রো পাড়া, নতুন পাইনচুই ম্রো পাড়া, খ্রিষ্টিয়ান ম্রো পাড়া ঘুরে দেখা গেছে, এই সাতটি পাড়ায় ১৫২টি ম্রো পরিবার রয়েছে। পোপা মৌজাতে অবস্থিত এ পাড়াগুলোতে শিক্ষিত লোক নেই বললেই চলে। হাতেগোনা কয়েকজন ছেলে উচ্চ মাধ্যমিকে পৌঁছুতে পেরেছে। মৌজাটির ৯৫ ভাগ ম্রো-ই বংশপরম্পরায় জুমচাষের (পাহাড়ে বিশেষ কায়দায় চাষ) ওপর নির্ভরশীল। জুমে শুধু ধান নয়- যব, ভুট্টা, মারফা, বেগুন, তুলাসহ নানা জাতের ফসল উৎপাদিত হয়। জুমের জায়গা না থাকলে উৎপাদন সম্ভব নয়। আর জুমের জায়গা না থাকার অর্থই স্থানান্তরিত হওয়া- দেশান্তরিত হওয়া।
  • পাইনচুই ম্রো পাড়ার কারবারি (পাড়াপ্রধান) পারিং ম্রো বলেন, জুমের আগুন দেওয়ার সময় পাড়ার লোকজনকে জানিয়ে করা হয়। তাদের সমাজে এমন রীতিই প্রচলিত। তাই জুমের আগাছা পরিস্কার করার আগুন দিলেও কোনো সময় তাদের বাড়িঘর পোড়ে না। কিন্তু দখলদাররা তাদের উচ্ছেদ করতে কাউকে না জানিয়েই কাটা জঙ্গলে আগুন দিতে পারে- এমন ভয় কাজ করছে তাদের মনে।
  • লক্ষণঝিড়ি মুরং পাড়ার কারবারি (পাড়াপ্রধান) মানক্রাত ম্রো বলেন, তাদের নিজস্ব কোনো বন্দোবস্তি জায়গা নেই। মৌজা হেডম্যানের দেওয়া রিপোর্ট আছে। জুমচাষের আগের জায়গা হারিয়েছেন তারা। এখন আছে শুধু পাড়ার জায়গাটি। সেটিও তাদের একক মালিকানায় নেই। লোকজন পাড়ার বাইরে গরু-ছাগল চরাতে গেলে দখলদারদের লোকজন বাধা দেয়। তিনি প্রশ্ন করেন, জুমচাষ করতে না পারলে, চলাচল করতে না পারলে, গরু-ছাগল পালতে না পারলে খাব কী? নিরুপায় হয়ে কি পাড়া ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে?
  • সরেজমিন দেখা গেছে, লক্ষণঝিড়ি মুরং পাড়ার শুধু এই ১০টি পরিবার নয়, আরও ছয়টি পাড়ার ১৪২টি ম্রো পরিবারও উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। পাড়ার তিন পাশের পাহাড়ি এলাকা দখল করে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা। তারপর সেখানকার জঙ্গল কেটে পরিস্কার করে নিজেদের দখলস্বত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। ম্রোদের চলাচলের পাহাড়ি কাঁচা পথটিও ভূমিদস্যুদের দখলে এখন। অথচ বেঁচে থাকার জন্য এসব স্থানেই তারা জুম চাষ করত। আর জুমের ফসল (ধান) দিয়েই চলত তাদের পুরো বছরের খাওয়া-দাওয়া।